সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত—এই পাঁচটি দলই এক শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। সম্মিলিতভাবে তাদের প্রাপ্ত ভোট ৮৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বাকি দলগুলো পেয়েছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশ ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পেতে হলে কোনো রাজনৈতিক দলকে অন্তত ১ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ১ শতাংশের কম ভোট পাওয়া দলগুলোর ভোট গণনায় ধরা হবে না। সেই হিসেবে হিসাব করলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) পাবে ৫৫ দশমিক ৭৮টি আসন , জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) পাবে ৩৫ দশমিক ৪৫টি , এনসিপি (NCP) পাবে ৩ দশমিক ৪টি , ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (Islami Andolon Bangladesh) পাবে ৩ দশমিক ০১টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (Bangladesh Khelafat Andolon) পাবে ২ দশমিক ৩৩টি আসন। ভগ্নাংশ বাদ দিয়ে পূর্ণ সংখ্যায় হিসাব করলে বিএনপি ৫৬, জামায়াত ৩৬, এনসিপি ৩, ইসলামী আন্দোলন ৩ এবং বাংলাদেশ খেলাফত ২টি আসন পেতে পারে।
তবে আরেকটি প্রস্তাবিত পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নিম্নকক্ষে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে যদি উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করা হয়, তাহলে যেসব দলের ভগ্নাংশের মান বেশি হবে, তারা পূর্ণ আসন পাবে।
বিএনপি সংসদের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির ইশতেহারেও নির্দিষ্টভাবে এই পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ পদ্ধতি অনুসারে, সংসদের প্রতি তিনটি আসনের বিপরীতে উচ্চকক্ষে একটি আসন বরাদ্দ হবে। সে হিসাবে তিনের কম আসন পাওয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত ও ইসলামী আন্দোলন উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাবে না।
এই অনুপাতে হিসাব করলে, এনসিপি নিম্নকক্ষে ৬টি আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে পাবে ২টি আসন। ৬৮টি আসনের জন্য জামায়াত পাবে ২৪টি আসন। আর অবশিষ্ট ৭৪টি আসন যাবে বিএনপির ঝুলিতে।
দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন চিত্র—ফলে এখন প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষ গঠিত হবে? এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কোনো দল কয়টি আসন পাবে উচ্চকক্ষে।


