কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা (Al Jazeera)-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান (Julkarnaine Sayeer Khan) দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দেশ ছাড়তে পারেন। সকালেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
সায়েরের ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ একটি মহল থেকে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছেন। তার এই পোস্ট সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিষয়টি, শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও কৌতূহল বাড়তে থাকে—ঠিক কী কারণে এমন আকস্মিক বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি?
পোস্টে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই উপদেষ্টার একজন আজ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যজন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে এমিরেটসের ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ওই দুই উপদেষ্টার নাম প্রকাশ করেননি সায়ের।
এমন হঠাৎ দেশত্যাগের খবর ঘিরে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এটি কি পূর্বনির্ধারিত সরকারি সফর, নাকি অন্য কোনো প্রেক্ষাপট রয়েছে এর পেছনে? বিশেষ করে বর্তমান প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের দেশত্যাগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখেন, যথাযথ অডিট ক্লিয়ারেন্স এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া কোনো উচ্চপর্যায়ের সরকারি ব্যক্তিকে দেশত্যাগের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক।
দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকারকর্মী হিসেবে কাজ করা এই সাংবাদিকের এমন বক্তব্যের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে জানতে চাইছেন, বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক রদবদলের প্রেক্ষাপটে এই দাবি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে দুই উপদেষ্টার সম্ভাব্য বিদেশ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে জুলকারনাইন সায়েরের এই দাবি সত্য প্রমাণিত হলে, তা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা ও প্রত্যাশা দুই-ই এখন আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।


