তেলের দামে কুপোকাত ট্রাম্প: ইরানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশের কাছে এই তেল বিক্রির অনুমোদন মিলেছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ (US Department of the Treasury) এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়। জানানো হয়, ২০ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা তেলের ক্ষেত্রে এই অনুমোদন প্রযোজ্য হবে এবং তা কার্যকর থাকবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।

এর আগেই বৃহস্পতিবার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি ধারণা দেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্ত হতে পারে। গত সপ্তাহে রুশ তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার পর এটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

‘এক্স’ (X) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট দাবি করেন, এই পদক্ষেপে ইরান খুব বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে না। তার ভাষায়, “এই তেল বিক্রির অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ইরানের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি অব্যাহত রাখবে।

বহু বছর ধরে ইরানের জ্বালানি রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে এই সাময়িক ছাড়কে অনেকেই কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এখন বাস্তববাদী পথ বেছে নিচ্ছে।

বিশেষ করে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগকে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই সীমিত পরিসরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিশ্ববাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে কি না। কারণ, ইরানি তেলের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যেই তথাকথিত ‘ছায়া ট্যাঙ্কার বহর’ (shadow fleet)-এর মাধ্যমে চীনে রপ্তানি হয়ে থাকে, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সক্ষম।

ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত প্রভাব—বাজারে দামের ওপর হোক বা ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে—তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহের পরিস্থিতির ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *