যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালীতে স্থবিরতা, ২৪ ঘন্টায় পার হলো মাত্র ৯ জাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ থামলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরেনি—বরং জাহাজ চলাচলের সংখ্যা নেমে এসেছে অস্বাভাবিকভাবে কম পর্যায়ে।

জাহাজ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক (MarineTraffic) এবং বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি বাল্ক ক্যারিয়ার এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স (S&P Global Market Intelligence) জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলিয়ে মোট নয়টি জাহাজ এই পথে যাতায়াত করেছে।

তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কারণ অনেক জাহাজ এই সংবেদনশীল এলাকা অতিক্রম করার সময় তাদের জিপিএস ট্র্যাকার বন্ধ রাখে বা বিভ্রান্তিকর সংকেত (spoof) পাঠায়, ফলে নির্ভুল তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তারপরও সামগ্রিক চিত্রটি স্পষ্ট—যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় বর্তমান নৌ-চলাচল অত্যন্ত কম। সাধারণত এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করত। সেই জায়গায় এখন সংখ্যা নেমে এসেছে একেবারেই নগণ্য পর্যায়ে। সমুদ্রবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’-এর প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলে প্রায় ৮০০ জাহাজ আটকা পড়ে আছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালীকে ‘পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত’ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে না—বরং পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির পরও নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলেই জাহাজগুলো এই রুট ব্যবহার করতে সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহ শৃঙ্খলেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বিকল্প রুট চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। জলপথটির মূল অংশে সামুদ্রিক মাইন থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নীতি মেনে চলতে এবং সামুদ্রিক মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে বিকল্প রুট ব্যবহার করা উচিত।’

বিবৃতিতে প্রণালি দিয়ে প্রবেশ এবং বের হওয়ার বিকল্প রুটের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে এএফপি। তবে তারা এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু তুলে ধরেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *