ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার দাবি উঠেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবি জানান। তার মতে, ‘ড. ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আজীবন থাকবে।’ ঈদের নামাজ শেষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন, তখনও এই দাবি সমর্থন করেন অনেক উপস্থিত ব্যক্তি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু বুদ্ধিজীবীর পরামর্শে এই দাবি উঠে আসতে পারে, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতীয় সরকারে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা হতে পারে।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, বর্তমান সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধি দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তারা মনে করছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন না হলে এবং বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মৈত্রী না হলে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়বে।
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সরকার ও কিছু বুদ্ধিজীবী পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা মনে করেন, ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) বলেন, ‘সরকার নিরপেক্ষতা হারালে বিএনপি তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। অধ্যাপক ইউনূসকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও ইসলামী শক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার কারণে উদারপন্থিরা সরকারের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। তারা মনে করেন, দেশজুড়ে সহিংসতা, মাজার ভাঙচুর, শিল্পীদের প্রতি হুমকি ও উগ্রবাদের উত্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
সেনাবাহিনীও দ্রুত নির্বাচন চায় বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে একটি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury) চট্টগ্রামে বলেন, ‘একটি শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য নতুন নতুন কৌশল খুঁজছে, তবে ফ্যাসিস্ট সরকার কখনো টিকে থাকতে পারেনি।’
মাহমুদুর রহমান মান্না (Mahmudur Rahman Manna) সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সরকার যেন সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে পারে, সেটাই আমাদের চাওয়া।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার (Mia Golam Parwar) দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (Nurul Haque Nur) বলেন, ‘নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ না দিলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব আরও বাড়বে।’
পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে?
বিএনপি, ১২ দলীয় জোটসহ বিরোধী দলগুলো সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধিতা করছে এবং দ্রুত নির্বাচন চায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার পরিকল্পনা হিতে বিপরীত হতে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।