মার্কিন গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল কানাডা
কানাডা (Canada) সরকার ঘোষণা করেছে, আমেরিকা থেকে আমদানি করা গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দেন মার্ক কার্নে (Mark Carney)। এর একদিন আগেই, বুধবার গভীর রাতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছিলেন। যদিও সেই তালিকায় সরাসরি কানাডা ছিল না, তবে এর আগেই ট্রাম্প কানাডার কিছু পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
ট্রাম্পের নীতির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
কার্নে জানান, ট্রাম্পের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই পাল্টা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন শুল্কনীতিকে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমেরিকা থেকে আমদানি করা যেসব গাড়ি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্যচুক্তির (USMCA) আওতায় পড়ে না, শুধুমাত্র সেগুলির উপরই এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে। মেক্সিকো থেকে আমদানি করা গাড়ি কিংবা গাড়ির যন্ত্রাংশের উপর এই শুল্ক লাগু হবে না।”
শুল্কনীতির কড়া সমালোচনা
কার্নে বলেন, “৮০ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব অর্থনীতিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আমেরিকা। পারস্পরিক নির্ভরতা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে জোট গঠন করেছিল তারা। পণ্য ও পরিষেবার অবাধ বিনিময়ের পক্ষে ছিল তারা। কিন্তু সেই দিন এখন অতীত।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, “ট্রাম্পের নীতির ফলে আমেরিকার সাধারণ জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই নীতির পরিবর্তন প্রয়োজন। যদিও আমি কোনো মিথ্যা আশা দিতে চাই না।”
আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা
কার্নের মতে, ট্রাম্পের বর্তমান আচরণই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এই নীতি থেকে সহসা সরে আসছে না। তবে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কানাডা লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
পুরনো অভিযোগে শুল্ক আরোপ
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, কানাডা থেকে আমেরিকায় অবৈধ অভিবাসন হয় এবং কানাডা সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেয় না। এই অভিযোগের জেরেই কানাডার উপর শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাতে কানাডা ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছিল। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী নিজেই।