থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Dr. Muhammad Yunus) ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রায় ৪০ মিনিটের এই বৈঠকে গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন, তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা রোধ, এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব
ড. ইউনূস বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বিবাদপূর্ণ বিষয় ও শেখ হাসিনার অবস্থান
প্রধান উপদেষ্টা শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ উল্লেখ করে বলেন, তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। ড. ইউনূস ভারতের প্রতি আহ্বান জানান, যেন শেখ হাসিনাকে এসব বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারত কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা জানতে চান।
মানবাধিকার ও নিরাপত্তা ইস্যু
বৈঠকে ড. ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩% শিশু।
এদিকে, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড রোধে যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায় বলে দাবি করেন মোদি, তবে দুই নেতা এ বিষয়ে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন।
মোদির প্রতিক্রিয়া ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না, বরং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে। তিনি শেখ হাসিনার বক্তব্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই দায়ী করেন।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে মোদির উদ্বেগের জবাবে ড. ইউনূস দাবি করেন, বেশিরভাগ হামলার খবর ‘অতিরঞ্জিত’ এবং প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে পাঠানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকের সারসংক্ষেপ
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar), জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, মোদি একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।