চীনের সমর্থন খুব দরকার ছিল: মোদির সাথে বৈঠকের দিনই চায়না মিডিয়ায় ড. ইউনূসের সাক্ষাৎকার প্রকাশ

চীন সরকার, চীনা ব্যবসায়ী ও জনগণের কাছ থেকে বাংলাদেশ বড় ধরনের সমর্থন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)। সম্প্রতি বেইজিং সফরকালে চায়না মিডিয়া গ্রুপকে (সিএমজি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

চীন সফর সফল ও ফলপ্রসূ

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তিনি চীন সফরকে সফল উল্লেখ করে বলেন, “এই সমর্থন খুবই দরকারি ও আনন্দের।”

প্রায় এক দশক আগে চীনের গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের জীবনমান পর্যবেক্ষণ করেছিলেন ইউনূস। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পৃথিবীর সব জায়গায় দারিদ্র্যের চেহারা একই রকম। এর সমাধান হলো মানুষের সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান।”

ক্ষুদ্র ঋণ ও উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি

ক্ষুদ্র ঋণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই অর্থ মানুষকে শক্তি দেয়, যা ব্যবহার করে জীবন বদলে ফেলা সম্ভব।”

তিনি তার “তিন শূন্য তত্ত্ব” এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং (Xi Jinping)-এর আধুনিকায়ন তত্ত্বের মধ্যে মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

নতুন বিশ্ব গঠনের আহ্বান

ড. ইউনূস বলেন, “পুরনো পৃথিবীকে টেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বরং নতুন চিন্তার কাঠামোর ভিত্তিতে একটি নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে।”

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সফল আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে চীনের সহায়তা প্রয়োজন এবং চীন তাতে আগ্রহী।”

তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতি ও বাণিজ্যে অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসবে এবং নতুন সুযোগ পর্যবেক্ষণ করবে।”

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

চীনে অনেক বন্ধু পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গঠনে এই বন্ধুত্ব কাজে লাগবে।”

দুই দেশের সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অধ্যাপক দু’র মন্তব্য

সাক্ষাৎকারের সময় উপস্থিত চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক দু বলেন, “ড. ইউনূস কেবল নোবেল বিজয়ী নন, বরং বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে তার অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

অধ্যাপক দু জানান, ১৯৯৩ সালে দারিদ্র্য বিমোচন অভিজ্ঞতা শিখতে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং তখন থেকেই ড. ইউনূসের সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়।

দু আরও বলেন, “ড. ইউনূস এখন বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ সুগম করছেন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *